সংক্ষিপ্ত উত্তর
এই জীবনে নয়। কুরআন বলে, “জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে”, আর এটি সবার সম্পর্কেই বলে। কিছু তাওবাদী অমর (শিয়ান) হতে চেয়েছিলেন, প্রথমে অমৃত দিয়ে আর পরে অন্তর্-রসায়ন দিয়ে, যা নিজের ভেতরের এক পরিশোধন। তাওবাদী শিক্ষক চুয়াংজি অন্য পথ নিয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী মারা গেলে তিনি তাঁর মৃত্যুকে ঋতুর মতো একটি পরিবর্তন হিসেবে দেখতে শুরু করেন। ইসলামও শেষ না হওয়া এক জীবনের আশা রাখে। এটি বলে, এমন জীবন শুরু হয় মৃত্যুর পরে, আখিরাতের আবাসে: “আখেরাতের জীবনই তো প্রকৃত জীবন”। এটি আমাদের নিজস্ব কোনো পদ্ধতিতে অর্জিত হয় না। এটি আল্লাহর (﷾) দান, তাদের জন্য যারা ঈমান আনে আর সৎকাজ করে। কুরআন আপনাকে এর কথাগুলো যত্ন নিয়ে বিবেচনা করতে বলে।
পূর্ণ ব্যাখ্যা
অমরদের সন্ধান
তাওবাদী ঐতিহ্যে একজন অমর (শিয়ান) হলেন এমন মানুষ, যিনি মৃত্যুর ওপারে চলে গেছেন। চতুর্থ শতাব্দীর তাওবাদী লেখক গে হং তাঁর বাওপুজি গ্রন্থে এই সন্ধানের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। কেউ তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিল, এমন অমরদের কাছে কি সত্যিই পৌঁছানো যায়। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, হ্যাঁ। যার শুরু আছে তার সবকিছুরই শেষ থাকতে হবে না, তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন: স্বর্গ ও পৃথিবীর কোনো শেষ নেই। তিনি মনে করতেন, ওষুধ ও কৌশল দেহকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করতে পারে। তিনি সদ্গুণকেও আগে রেখেছিলেন। যে অমর হতে চায়, তিনি লিখেছিলেন, তাকে আনুগত্য, পিতৃভক্তি, দয়া ও সততাকে মূল হিসেবে নিতে হবে। সদ্গুণ ছাড়া কেবল কৌশল কাউকে দীর্ঘায়ু দেয় না। সব পদ্ধতির মধ্যে তিনি দুটি অমৃতকে সবার ওপরে রেখেছিলেন। এখানে অমৃত মানে রূপান্তরের একটি ওষুধ, যা দীর্ঘ পরিশোধনে তৈরি। অন্য ওষুধ, তিনি লিখেছিলেন, সামান্য সাহায্য করতে পারে, কিন্তু কখনো কাউকে চিরকাল বাঁচিয়ে রাখতে পারে না।
অধ্যায় 2-এ (অমরদের বিষয়ে) কেউ জিজ্ঞাসা করে, যে অমররা মরেন না তাঁদের কাছে কি সত্যিই পৌঁছানো যায়। একজন প্রশ্নকর্তা হেসে বলে যে যার শুরু আছে তার শেষও থাকতে হবে। গে হং উত্তর দেন যে এটি সব কিছুর ক্ষেত্রে সত্য নয়: স্বর্গ ও পৃথিবীর কোনো শেষ নেই, আর কচ্ছপ ও সারস দীর্ঘজীবী। তিনি মনে করেন অমররা ওষুধ দিয়ে দেহের পুষ্টি জোগান এবং কৌশল দিয়ে আয়ু বাড়ান, যাতে তাঁরা না মরে বেঁচে থাকেন। অধ্যায় 3-এ (সাধারণ মানুষকে উত্তর) তিনি বলেন যে যে অমর হতে চায় তাকে আনুগত্য, পিতৃভক্তি, সম্প্রীতি, বাধ্যতা, দয়া ও সততাকে মূল হিসেবে নিতে হবে; সদ্গুণের চর্চা না করে কেবল কৌশল নিয়ে কাজ করলে কেউ দীর্ঘায়ু লাভ করে না। অধ্যায় 4-এ (সোনা ও সিঁদুর) তিনি বলেন যে তাঁর পড়া বইগুলো সবই দুটি অমৃত তৈরি করে, প্রত্যাবর্তিত অমৃত ও স্বর্ণতরল, অমরদের পথের সর্বোচ্চ পদ্ধতি। তিনি বলেন, অন্যান্য ওষুধ সামান্য সাহায্য করতে পারে, কিন্তু কখনো কাউকে চিরকাল বাঁচিয়ে রাখতে পারে না।
অমৃত ভেতরের দিকে ফিরল
পরবর্তী গুরুরা ক্রমশ আরও বেশি ভেতরের দিকে তাকিয়েছিলেন। সং যুগের তাওবাদী গুরু চাং বোদুয়ান উচেন পিয়ান লিখেছিলেন; এর ভূমিকার তারিখ 1075। তিনি লিখেছিলেন, লাওজি ও বুদ্ধের শিক্ষা স্বভাব ও জীবনের চর্চার মধ্য দিয়ে জন্ম ও মৃত্যু থেকে মুক্তির একটি পথ খুলে দিয়েছিল। শ্বাসের ব্যায়াম, শস্য ত্যাগ আর খনিজ, তিনি বলেছিলেন, রোগ ঠেকাতে পারে কিন্তু স্থায়ী সাফল্য আনতে পারে না। কেবল প্রকৃত স্বর্ণ-অমৃতই তা পারে। এর ফল, তিনি লিখেছিলেন, একটি রূপান্তরিত আত্মা, যার নাম অমরদের খাতায় লেখা থাকে। তাঁর কবিতা বলে, বহু ওষুধ খোঁজা প্রকৃত পথ নয়। ব্যায়াম দিয়ে দেহকে ক্লান্ত করা, বা শ্বাস পরিশোধন করাও নয়, সেগুলো বলে। এই অন্তর্মুখী পথকে পরে বলা হয় অন্তর্-রসায়ন (নেইদান)।
চাং বোদুয়ান লেখেন, লাওজি ও বুদ্ধের শিক্ষা স্বভাব ও জীবনের (শিং ও মিং) বিদ্যার মধ্য দিয়ে মানুষকে জন্ম ও মৃত্যু থেকে মুক্তি পাওয়া শেখানোর একটি পথ খুলে দিয়েছিল। তিনি বলেন, শ্বাসের ব্যায়াম, শস্য ত্যাগ, মর্দন ও খনিজ সহজে পাওয়া যায় কিন্তু পূর্ণ করা কঠিন: এগুলো রোগ ঠেকাতে পারে, কিন্তু স্থায়ী সাফল্য আনতে পারে না। কেবল প্রকৃত স্বর্ণ-রসায়নই তা পারে। তিনি এর ফল দিয়ে শেষ করেন: আত্মা রূপান্তরিত, অমরদের খাতায় নাম লেখা, আর সিদ্ধপুরুষের উপাধি। তাঁর কবিতায় তিনি সাবধান করেন, বহু ওষুধ খোঁজা প্রকৃত পথ নয়, আর প্রকৃত সীসা ও পারদ সাধারণ হিঙ্গুল ও পারদ নয় (নং 8)। ব্যায়াম দিয়ে দেহকে ক্লান্ত করা পথ নয়, তিনি বলেন, আর শ্বাস পরিশোধন করা মূর্খতা (নং 9)।
চুয়াংজি: ঋতু বদলের মতো মৃত্যু
চুয়াংজি (চুয়াং ৎসু) ছিলেন খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীর একজন তাওবাদী শিক্ষক। তাঁর নামের গ্রন্থটি এখানে উদ্ধৃত হয়েছে হারবার্ট জাইলসের 1889 সালের ইংরেজি অনুবাদ থেকে। চুয়াংজির স্ত্রী মারা গেলে তাঁর বন্ধু হুই শি (হুই ৎসু) শোক জানাতে এসেছিলেন। তিনি দেখলেন চুয়াংজি গান গাইছেন আর একটি পাত্রে তাল দিচ্ছেন। চুয়াংজি বললেন, প্রথমে তিনি বিচলিত হয়েছিলেন। তারপর তিনি তাঁর মৃত্যুকে আরেকটি পরিবর্তন হিসেবে দেখলেন, “বসন্ত, গ্রীষ্ম, শরৎ ও শীতের ক্রমের মতো”। গ্রন্থটির ধ্রুপদি ভাষ্যকার গুও শিয়াং বলেন, বোঝার আগে তিনি বিচলিত ছিলেন, আর বোঝার পর থেমে গিয়েছিলেন। গুও শিয়াং এও বলেন, চুয়াংজি মৃত্যুকে ভালোবাসতেন না বা জীবনকে ঘৃণা করতেন না: তিনি দুটিতেই শান্ত থাকতে চেয়েছিলেন।
““মোটেই না,” চুয়াং ৎসু উত্তর দিলেন। “যখন সে মারা গেল, তার মৃত্যুতে আমি বিচলিত না হয়ে পারিনি। তবে শিগগিরই আমার মনে পড়ল, জন্মের আগে সে এক পূর্ববর্তী অবস্থায় ছিল, রূপ ছাড়া, এমনকি উপাদান ছাড়াও; সেই শর্তহীন অবস্থায় থাকার সময় আত্মার সঙ্গে উপাদান যুক্ত হলো; সেই উপাদান তারপর রূপ নিল; আর পরের ধাপ ছিল জন্ম। আর এখন, আরেকটি পরিবর্তনের ফলে, সে মৃত, এক পর্যায় থেকে আরেক পর্যায়ে যাচ্ছে, বসন্ত, গ্রীষ্ম, শরৎ ও শীতের ক্রমের মতো। আর সে যখন এভাবে অনন্তে ঘুমিয়ে আছে, তখন আমার কেঁদে-বিলাপ করে বেড়ানো হবে এই প্রাকৃতিক নিয়মগুলো সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতা ঘোষণা করা। তাই আমি বিরত থাকি।””
অধ্যায় 1-এ মিয়াও-কু-শে (গুশে) পর্বতের দিব্য মানুষ প্রসঙ্গে গুও শিয়াং বলেন, এর সবই রূপক কথা: দিব্য মানুষ হলেন যাঁকে আমরা এখন ঋষি বলি, যিনি রাজদরবারে বসেও মনকে পাহাড়ি বনের মতো মুক্ত রাখেন। চেং শুয়ানইং যোগ করেন, এটি একটি রূপক, আর প্রকৃত গুশে পর্বত থাকার দরকার নেই। অধ্যায় 18-এ চুয়াংজির স্ত্রী প্রসঙ্গে গুও শিয়াং বলেন, বোঝার আগে তিনি বিচলিত হয়েছিলেন, আর বোঝার পর থেমে গিয়েছিলেন। চেং শুয়ানইং ব্যাখ্যা করেন, জীবন আসে অনস্তিত্ব থেকে আর মৃত্যু সেখানেই ফিরে যায়, যেমন চার ঋতু একের পর এক আসে। মাথার খুলির কাহিনি প্রসঙ্গে গুও শিয়াং বলেন, পুরোনো মত, যে চুয়াংজি মৃত্যুকে ভালোবাসতেন আর জীবনকে ঘৃণা করতেন, ভুল: তাঁর কথা হলো জীবিত থাকতে জীবনে শান্ত থাকা, আর মৃত হলে মৃত্যুতে শান্ত থাকা।
দূর পর্বতের দিব্য মানুষ
চুয়াংজির প্রথম অধ্যায়ে একজন বক্তা তাঁর শোনা একটি কাহিনি পুনরাবৃত্তি করেন। এটি বলে, মিয়াও-কু-শে পর্বতে এক “দিব্য মানুষ” থাকেন, যিনি “পৃথিবীর কোনো ফল খান না, বরং বাতাস ও শিশিরে বাঁচেন”। এখানে ‘দিব্য’ মানে আত্মার মতো: তিনি কোনো দেবতা নন। তিনি “নশ্বরতার সীমার ওপারে ঘুরে বেড়ান”। বক্তা একে বলেন “আজেবাজে কথা”। আরেকজন, লিয়েন শু, তাঁকে মনের অন্ধত্বের জন্য তিরস্কার করেন। গুও শিয়াং দিব্য মানুষটিকে পড়েছিলেন ঋষির একটি ছবি হিসেবে, কোনো সত্যিকারের পর্বতের খবর হিসেবে নয়। জাইলসের ইংরেজি এই গ্রন্থে প্রায়ই লেখে ‘ঈশ্বর’। এর পেছনের চীনা শব্দ বিভিন্ন: স্বর্গ (থিয়ান), জিনিসের নির্মাতা (চাওউচে), বা অধ্যায় 18-এ সিমিং, ভাগ্যের বিচারক, একটি আত্মা। সেখানে ‘ঈশ্বর’ অনুবাদকের শব্দ, চুয়াংজির নয়।
““তিনি ঘোষণা করলেন,” চিয়েন উ উত্তর দিলেন, “মিয়াও-কু-শে পর্বতে এক দিব্য মানুষ থাকেন, যাঁর দেহ বরফ বা তুষারের মতো, যাঁর আচরণ কুমারীর মতো, যিনি পৃথিবীর কোনো ফল খান না, বরং বাতাস ও শিশিরে বাঁচেন, আর যিনি উড়ন্ত ড্রাগনদের বাহন করে মেঘে চড়ে নশ্বরতার সীমার ওপারে ঘুরে বেড়ান। এই সত্তা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। তবু তিনি সবকিছু থেকে পচন দূরে রাখেন, আর ফসল সমৃদ্ধ করেন। আমি একে আজেবাজে কথা বলি, আর তা বিশ্বাস করি না।””
অধ্যায় 1-এ মিয়াও-কু-শে (গুশে) পর্বতের দিব্য মানুষ প্রসঙ্গে গুও শিয়াং বলেন, এর সবই রূপক কথা: দিব্য মানুষ হলেন যাঁকে আমরা এখন ঋষি বলি, যিনি রাজদরবারে বসেও মনকে পাহাড়ি বনের মতো মুক্ত রাখেন। চেং শুয়ানইং যোগ করেন, এটি একটি রূপক, আর প্রকৃত গুশে পর্বত থাকার দরকার নেই। অধ্যায় 18-এ চুয়াংজির স্ত্রী প্রসঙ্গে গুও শিয়াং বলেন, বোঝার আগে তিনি বিচলিত হয়েছিলেন, আর বোঝার পর থেমে গিয়েছিলেন। চেং শুয়ানইং ব্যাখ্যা করেন, জীবন আসে অনস্তিত্ব থেকে আর মৃত্যু সেখানেই ফিরে যায়, যেমন চার ঋতু একের পর এক আসে। মাথার খুলির কাহিনি প্রসঙ্গে গুও শিয়াং বলেন, পুরোনো মত, যে চুয়াংজি মৃত্যুকে ভালোবাসতেন আর জীবনকে ঘৃণা করতেন, ভুল: তাঁর কথা হলো জীবিত থাকতে জীবনে শান্ত থাকা, আর মৃত হলে মৃত্যুতে শান্ত থাকা।
““মোটেই না,” চুয়াং ৎসু উত্তর দিলেন। “যখন সে মারা গেল, তার মৃত্যুতে আমি বিচলিত না হয়ে পারিনি। তবে শিগগিরই আমার মনে পড়ল, জন্মের আগে সে এক পূর্ববর্তী অবস্থায় ছিল, রূপ ছাড়া, এমনকি উপাদান ছাড়াও; সেই শর্তহীন অবস্থায় থাকার সময় আত্মার সঙ্গে উপাদান যুক্ত হলো; সেই উপাদান তারপর রূপ নিল; আর পরের ধাপ ছিল জন্ম। আর এখন, আরেকটি পরিবর্তনের ফলে, সে মৃত, এক পর্যায় থেকে আরেক পর্যায়ে যাচ্ছে, বসন্ত, গ্রীষ্ম, শরৎ ও শীতের ক্রমের মতো। আর সে যখন এভাবে অনন্তে ঘুমিয়ে আছে, তখন আমার কেঁদে-বিলাপ করে বেড়ানো হবে এই প্রাকৃতিক নিয়মগুলো সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতা ঘোষণা করা। তাই আমি বিরত থাকি।””
জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ নেবে
কুরআন বলে, “জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে”। এটি সবার সম্পর্কে বলে, কোনো ব্যতিক্রম ছাড়া। এটি নবীকে (ﷺ) নিজেকেও বলে: “আমরা আপনার আগেও কোনো মানুষকে অনন্ত জীবন দান করিনি”। এটি বলে, পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব বিনষ্ট হবে, আর “আপনার রবের চেহারা” অবিনশ্বর থাকবে। ইসলাম মৃত্যুর সামনে শান্ত থাকতেও বলে। এটি শুকনো চোখ চায় না। নবীর (ﷺ) শিশুপুত্র যখন মারা যাচ্ছিলেন, তিনি কেঁদেছিলেন, আর বলেছিলেন হৃদয় দুঃখ পায়, কিন্তু আমরা কেবল তা-ই বলি যা আমাদের রবকে সন্তুষ্ট করে। ক্ষতিতে আক্রান্তরা বলে, “আমরা তো আল্লাহ্রই। আর নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী”। মৃত্যু কেবল ঋতু বদলের মতো একটি পরিবর্তন নয়। এটি আমাদের যিনি বানিয়েছেন তাঁর কাছে ফিরে যাওয়া, হিসাব দিতে।
“জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। কেবল কেয়ামতের দিনই তোমাদেরকে তোমাদের কর্মফল পূর্ণ মাত্রায় দেয়া হবে। অতঃপর যাকে আগুন থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলকাম। আর পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ছাড়া আর কিছু নয়।”
“আর আমরা আপনার আগেও কোনো মানুষকে অনন্ত জীবন দান করিনি; কাজেই আপনার মৃত্যু হলে তারা কি চিরজীবি হয়ে থাকবে?”
“জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে; আমরা তোমাদেরকে মন্দ ও ভালো দ্বারা বিশেষভাবে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমাদেরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।”
“ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবকিছুই নশ্বর, আর অবিনশ্বর শুধু আপনার রবের চেহারা, যিনি মহিমাময়, মহানুভব;”
আনাস বর্ণনা করেন যে নবীর (ﷺ) শিশুপুত্র ইবরাহিম যখন শেষ নিঃশ্বাস নিচ্ছিলেন, তখন নবীর চোখ অশ্রুতে ভরে গেল। আবদুর রহমান ইবনে আওফ অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনিও কি কাঁদেন? তিনি উত্তর দিলেন, এটা রহমত। তারপর তিনি আরও কাঁদলেন এবং বললেন, চোখ অশ্রু ঝরায় আর হৃদয় দুঃখ পায়, কিন্তু আমরা কেবল তা-ই বলি, যা আমাদের রবকে সন্তুষ্ট করে, আর ইবরাহিমের বিচ্ছেদে তাঁরা দুঃখিত।
“আর আমরা তোমাদেরকে অবশ্যই পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা। আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদেরকে-- যারা তাদের উপর বিপদ আসলে বলে, ‘আমরা তো আল্লাহ্রই। আর নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী’। এরাই তারা, যাদের প্রতি তাদের রবের কাছ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ এবং রহমত বর্ষিত হয়, আর তারাই সৎপথে পরিচালিত।”
“‘তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমরা তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না?’”
শেষ না হওয়া জীবন আল্লাহর (﷾) দান
ইসলাম অন্তহীন জীবনের আশাকে ভুল বলে না। এটি বলে সেই আশা কোথায় পূর্ণ হয়। কুরআন বলে, “আখেরাতের জীবনই তো প্রকৃত জীবন”। জান্নাতবাসীদের সম্পর্কে এটি বলে, “প্রথম মৃত্যুর পর তারা সেখানে আর মৃত্যু আস্বাদন করবে না”। তাই অন্তহীন জীবন আসে মৃত্যুর পরে, তার বদলে নয়। এটি আমাদের নিজস্ব কোনো পদ্ধতিতে অর্জিত হয় না। আল্লাহ (﷾) তা দেন তাদের, “যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে” (18:107)। কুরআন বলে, যে আত্মাকে পবিত্র করে সে সফল হয়। তবু পবিত্রতাও তাঁর দান: “আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছে পবিত্র করেন” (24:21)। প্রশান্ত আত্মাকে ফিরে ডাকা হয়: “তুমি তোমার রবের কাছে ফিরে আস”।
“আর এ দুনিয়ার জীবন তো খেল-তামাশা ছাড়া কিছুই নয়। আর আখেরাতের জীবনই তো প্রকৃত জীবন। যদি তারা জানত!”
“প্রথম মৃত্যুর পর তারা সেখানে আর মৃত্যু আস্বাদন করবে না। আর তিনি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করবেন-”
“নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদের আতিথিয়েতার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখান থেকে তারা স্থানান্তরিত হতে চাইবে না।”
“সে-ই সফলকাম হয়েছে, যে নিজেকে পবিত্র করেছে। আর সে-ই ব্যর্থ হয়েছে, যে নিজেকে কলুষিত করেছে।”
“হে মুমিনগণ! তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। আর কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করলে শয়তান তো অশ্লীলতা ও মন্দ কাজেরই নির্দেশ দেয়। আল্লাহ্র অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমাদের কেউই কখনো পবিত্র হতে পারতে না, তবে আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছে পবিত্র করেন এবং আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”
“হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার রবের কাছে ফিরে আস সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে, অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও, আর আমার জান্নাতে প্ৰবেশ কর।”
| কে | তিনি যা শিখিয়েছিলেন |
|---|---|
| গে হং | অমৃতের মাধ্যমে অমরত্ব, যার মূলে সদ্গুণ। |
| চাং বোদুয়ান | ভেতরের দিকে ফেরানো সোনালি অমৃত: অন্তর্গত রসায়ন। |
| চুয়াংজি | মৃত্যু আরেকটি পরিবর্তন মাত্র, ঋতুর মতো। |
| কুরআন | প্রত্যেক প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। যে জীবন শেষ হয় না, তা আসে এর পরে, আল্লাহর (﷾) দান হিসেবে। |
দেহের যত্ন, আর তার ওপারের আশা
ইসলাম দেহেরও যত্ন নেয়। একজন মানুষ প্রতিদিন রোজা রাখতেন আর সারা রাত নামাজ পড়তেন। নবী (ﷺ) তাঁকে বললেন কিছু দিন রোজা রাখতে আর কিছু দিন না রাখতে, আর নামাজের পাশাপাশি ঘুমাতেও। তোমার দেহের তোমার ওপর অধিকার আছে, তিনি বললেন। তাই সুস্থ জীবন ভালো। কিন্তু দীর্ঘ জীবনও শেষ হয়। কুরআন যত্ন নিয়ে বিবেচিত হতে চায়। এটি বলে মুহাম্মাদ (ﷺ) সব মানুষের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন, খাতামুন নাবিয়্যিন হিসেবে। ইসলাম একটি দীন, একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা: বিশ্বাস, ইবাদত, আইন, পরিবার ও চরিত্র একসঙ্গে। আল্লাহ (﷾) বলেন তিনি একে পরিপূর্ণ করেছেন (5:3)। কুরআন মুমিনদের বলে পূর্ণাঙ্গভাবে এতে প্রবেশ করতে। “ইসলাম কী?” পৃষ্ঠাটি পুরোটা এক জায়গায় দেখায়।
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস প্রতিদিন রোজা রাখতেন আর সারা রাত নামাজ পড়তেন। নবী (ﷺ) তাঁকে তা করতে নিষেধ করলেন: তিনি যেন কিছু দিন রোজা রাখেন আর কিছু দিন না রাখেন, আর রাতে নামাজ পড়েন আবার ঘুমানও। তিনি বললেন, তার দেহের তার ওপর অধিকার আছে, তার চোখের তার ওপর অধিকার আছে, আর তার স্ত্রীর তার ওপর অধিকার আছে।
“জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। কেবল কেয়ামতের দিনই তোমাদেরকে তোমাদের কর্মফল পূর্ণ মাত্রায় দেয়া হবে। অতঃপর যাকে আগুন থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলকাম। আর পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ছাড়া আর কিছু নয়।”
“তবে কি তারা কুরআনকে গভীরভাবে অনুধাবন করে না? যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট হতে আসত, তবে তারা এতে অনেক অসঙ্গতি পেত।”
“বলুন, ‘হে মানুষ! নিশ্চয় আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহ্র রাসূল, যিনি আসমানসমূহ ও যমীনের সার্বভৌমত্বের অধিকারী। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; তিনি জীবিত করেন ও মৃত্যু ঘটান। কাজেই তোমরা ঈমান আন আল্লাহ্র প্রতি ও তাঁর রাসূল উম্মী নবীর প্রতি যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহে ঈমান রাখেন। আর তোমরা তার অনুসরণ কর, যাতে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হও।’”
“মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন; ববং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আর আল্লাহ্ সর্বকিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।”
“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম, আর তোমাদের জন্য ইসলামকে দীন হিসেবে পছন্দ করলাম।”
“হে মুমিনগণ! তোমরা পুর্ণাঙ্গভাবে ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্কসমূহ অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শক্ৰ।”
চারটি জবাবের উত্তর
গে হং, বাওপুজি, অন্তর্খণ্ড 2, 3 ও 4
অধ্যায় 2-এ (অমরদের বিষয়ে) কেউ জিজ্ঞাসা করে, যে অমররা মরেন না তাঁদের কাছে কি সত্যিই পৌঁছানো যায়। একজন প্রশ্নকর্তা হেসে বলে যে যার শুরু আছে তার শেষও থাকতে হবে। গে হং উত্তর দেন যে এটি সব কিছুর ক্ষেত্রে সত্য নয়: স্বর্গ ও পৃথিবীর কোনো শেষ নেই, আর কচ্ছপ ও সারস দীর্ঘজীবী। তিনি মনে করেন অমররা ওষুধ দিয়ে দেহের পুষ্টি জোগান এবং কৌশল দিয়ে আয়ু বাড়ান, যাতে তাঁরা না মরে বেঁচে থাকেন। অধ্যায় 3-এ (সাধারণ মানুষকে উত্তর) তিনি বলেন যে যে অমর হতে চায় তাকে আনুগত্য, পিতৃভক্তি, সম্প্রীতি, বাধ্যতা, দয়া ও সততাকে মূল হিসেবে নিতে হবে; সদ্গুণের চর্চা না করে কেবল কৌশল নিয়ে কাজ করলে কেউ দীর্ঘায়ু লাভ করে না। অধ্যায় 4-এ (সোনা ও সিঁদুর) তিনি বলেন যে তাঁর পড়া বইগুলো সবই দুটি অমৃত তৈরি করে, প্রত্যাবর্তিত অমৃত ও স্বর্ণতরল, অমরদের পথের সর্বোচ্চ পদ্ধতি। তিনি বলেন, অন্যান্য ওষুধ সামান্য সাহায্য করতে পারে, কিন্তু কখনো কাউকে চিরকাল বাঁচিয়ে রাখতে পারে না।
যে কারণে উদ্ধৃত
গে হং বহু আগেই এর উত্তর দিয়েছিলেন। যা শুরু হয় তার সবকিছুরই শেষ হতে হবে না: স্বর্গ ও পৃথিবীর কোনো শেষ নেই। তাই একজন মানুষও মৃত্যুর ওপারে যেতে পারে।
জবাব
ইসলাম একমত যে অন্তহীন জীবন সম্ভব, কারণ আল্লাহ (﷾) তা দিতে পারেন। কুরআন বলে জান্নাতবাসীরা সেখানে প্রথম মৃত্যু ছাড়া আর মৃত্যুর স্বাদ নেবে না (44:56)। প্রশ্ন হলো সেই জীবন কে দেন, আর কখন। কুরআন বলে পৃথিবীর সবকিছু বিনষ্ট হবে, আর আপনার রবের চেহারা অবিনশ্বর থাকবে (55:26-27)। তাই অন্তহীন জীবন দেওয়া হয় মৃত্যুর পরে, তার বদলে নয় (3:185)।
যেখানে গিয়ে দাঁড়ায় — অন্তহীন জীবন সত্য, কিন্তু তা প্রথম মৃত্যুর পরে আল্লাহর (﷾) দান, এই জগতে পৌঁছানো কোনো অবস্থা নয়।
চাং বোদুয়ান, উচেন পিয়ান (1075), ভূমিকা ও শ্লোক
চাং বোদুয়ান লেখেন, লাওজি ও বুদ্ধের শিক্ষা স্বভাব ও জীবনের (শিং ও মিং) বিদ্যার মধ্য দিয়ে মানুষকে জন্ম ও মৃত্যু থেকে মুক্তি পাওয়া শেখানোর একটি পথ খুলে দিয়েছিল। তিনি বলেন, শ্বাসের ব্যায়াম, শস্য ত্যাগ, মর্দন ও খনিজ সহজে পাওয়া যায় কিন্তু পূর্ণ করা কঠিন: এগুলো রোগ ঠেকাতে পারে, কিন্তু স্থায়ী সাফল্য আনতে পারে না। কেবল প্রকৃত স্বর্ণ-রসায়নই তা পারে। তিনি এর ফল দিয়ে শেষ করেন: আত্মা রূপান্তরিত, অমরদের খাতায় নাম লেখা, আর সিদ্ধপুরুষের উপাধি। তাঁর কবিতায় তিনি সাবধান করেন, বহু ওষুধ খোঁজা প্রকৃত পথ নয়, আর প্রকৃত সীসা ও পারদ সাধারণ হিঙ্গুল ও পারদ নয় (নং 8)। ব্যায়াম দিয়ে দেহকে ক্লান্ত করা পথ নয়, তিনি বলেন, আর শ্বাস পরিশোধন করা মূর্খতা (নং 9)।
যে কারণে উদ্ধৃত
প্রকৃত অমৃত ভেতরের। সিদ্ধপুরুষ তাঁর আত্মাকে পরিশোধন করেন, আর সেই আত্মা বেঁচে থাকে। মৃত্যু নিয়ে তোমার আয়াতগুলো কেবল দেহের কথা বলে।
জবাব
আয়াতটি প্রতিটি দেহের কথা বলে না। এটি বলে “জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে” (3:185)। আত্মা যত পরিশোধিতই হোক, কেউ মৃত্যুকে এড়িয়ে যায় না। ইসলাম একমত যে আত্মা মৃত্যুর পরে বেঁচে থাকে। কিন্তু ইসলামে প্রতিটি আত্মাই বেঁচে থাকে, কেবল পরিশোধিতটি নয়। কোনো প্রশিক্ষণ যা স্থির করতে পারে না তা হলো সেটি কোথায় যায়। কুরআন বলে, যে আত্মাকে পবিত্র করে সে সফল হয় (91:9-10), আর পবিত্রতাও আল্লাহর (﷾) দান (24:21)। প্রশান্ত আত্মাকে ফিরে ডাকা হয়: “তুমি তোমার রবের কাছে ফিরে আস” (89:27-30)।
যেখানে গিয়ে দাঁড়ায় — জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ নেয়, আর প্রতিটি আত্মা তার পরে বেঁচে থাকে। সেটি কোথায় যায় তা আল্লাহ (﷾) স্থির করেন, আর পবিত্রতা তাঁর দান।
চুয়াংজি 18 — অধ্যায় 18, “পরম সুখ”, অনুচ্ছেদ 16
““মোটেই না,” চুয়াং ৎসু উত্তর দিলেন। “যখন সে মারা গেল, তার মৃত্যুতে আমি বিচলিত না হয়ে পারিনি। তবে শিগগিরই আমার মনে পড়ল, জন্মের আগে সে এক পূর্ববর্তী অবস্থায় ছিল, রূপ ছাড়া, এমনকি উপাদান ছাড়াও; সেই শর্তহীন অবস্থায় থাকার সময় আত্মার সঙ্গে উপাদান যুক্ত হলো; সেই উপাদান তারপর রূপ নিল; আর পরের ধাপ ছিল জন্ম। আর এখন, আরেকটি পরিবর্তনের ফলে, সে মৃত, এক পর্যায় থেকে আরেক পর্যায়ে যাচ্ছে, বসন্ত, গ্রীষ্ম, শরৎ ও শীতের ক্রমের মতো। আর সে যখন এভাবে অনন্তে ঘুমিয়ে আছে, তখন আমার কেঁদে-বিলাপ করে বেড়ানো হবে এই প্রাকৃতিক নিয়মগুলো সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতা ঘোষণা করা। তাই আমি বিরত থাকি।””
যে কারণে উদ্ধৃত
চুয়াংজি অমৃত-সাধকদের চেয়েও, তোমার চেয়েও জ্ঞানী ছিলেন। মৃত্যু ঋতুর মতো একটি পরিবর্তন। কেঁদে-বিলাপ করা মানে “এই প্রাকৃতিক নিয়মগুলো সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতা” প্রকাশ করা।
জবাব
ইসলাম তাঁর শান্ত ভাব ভাগ করে নেয়, আর চুয়াংজিও প্রথমে বিচলিত হয়েছিলেন। কিন্তু ইসলাম কখনো চোখের জলকে অজ্ঞতা গণ্য করে না। তাঁর শিশুপুত্র ইবরাহিম যখন মারা যাচ্ছিলেন, নবী (ﷺ) কেঁদেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, চোখ অশ্রু ঝরায় আর হৃদয় দুঃখ পায়, কিন্তু আমরা কেবল তা-ই বলি যা আমাদের রবকে সন্তুষ্ট করে (বুখারি 1303)। কুরআন তাদের প্রশংসা করে যারা ক্ষতিতে বলে, “আমরা তো আল্লাহ্রই। আর নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী” (2:156)। এটি পৃথিবীর জীবনে ফিরে আসাকেও একটি নিদর্শন হিসেবে ব্যবহার করে। আল্লাহ (﷾) “যমীনকে জীবিত করেন তার মৃত্যুর পর এবং এভাবেই তোমাদের বের করে আনা হবে” (30:19), অর্থাৎ মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত করা হবে। কুরআন বলে আমাদের অনর্থক সৃষ্টি করা হয়নি, আর আমাদের আল্লাহর (﷾) কাছে ফিরিয়ে আনা হবে (23:115)। কিয়ামতের দিন প্রতিটি আত্মাকে পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হয় (3:185)।
যেখানে গিয়ে দাঁড়ায় — শান্ত থাকা আর চোখের জল, দুটোরই নিজস্ব স্থান আছে। পৃথিবীর জীবনে ফিরে আসা আমাদের নিজেদের ফিরে আসার দিকে নির্দেশ করে: আল্লাহর (﷾) কাছে ফেরা, আর একটি বিচার দিন।
তাও তে চিং 33 — দাওদেজিং, অধ্যায় 33
“যে নিজের অবস্থানের দায়িত্বে ব্যর্থ হয় না, সে দীর্ঘকাল টিকে থাকে; যে মরে অথচ বিনষ্ট হয় না, সে দীর্ঘায়ু পায়।”
যে কারণে উদ্ধৃত
তাও তে চিং আগেই এর প্রতিশ্রুতি দেয়: “যে মরে অথচ বিনষ্ট হয় না, সে দীর্ঘায়ু পায়”।
জবাব
এর নিজের ভাষ্যকাররা যেভাবে পড়েন, সেভাবে পড়ুন। ওয়াং বি বলেন, দেহ চলে যায়, কিন্তু যে পথে মানুষটি বেঁচেছিল তা থেকে যায়। হেশাং গং বলেন, নির্দোষ জীবন দীর্ঘায়ু আনে। কেউই চরণটিকে এই প্রতিশ্রুতি হিসেবে পড়েন না যে মানুষটি নিজে বেঁচে থাকে। কুরআন সেই প্রতিশ্রুতি স্পষ্টভাবে দেয়: আমাদের আল্লাহর (﷾) কাছে ফিরিয়ে আনা হয় (23:115), আর আখিরাতের আবাসই “প্রকৃত জীবন” (29:64)।
যেখানে গিয়ে দাঁড়ায় — অধ্যায় 33, এর ভাষ্যকাররা যেভাবে পড়েন, দেহের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী একটি পথের প্রশংসা করে। কুরআন বলে মানুষটি নিজেই পুনরুত্থিত হয়।
দৃষ্টিভঙ্গি
তাওবাদী: অমরত্বে পৌঁছানো যায়
তাওবাদী ঐতিহ্যের একটি ধারায় একজন মানুষ মৃত্যুর ওপারে যেতে পারে। গে হং মনে করতেন অমৃত ও কৌশল তা আনতে পারে, আর চুয়াংজি নশ্বরতার ওপারের এক দিব্য মানুষের কথা বলে।
যার শুরু আছে তার সবকিছুরই শেষ থাকতে হবে না: স্বর্গ ও পৃথিবীর কোনো শেষ নেই। তাই একজন মানুষও মৃত্যুর ওপারে যেতে পারে (গে হং, বাওপুজি 2)।
খণ্ডন
মেনে নেওয়া গেল: আল্লাহ (﷾) অন্তহীন জীবন দিতে পারেন, আর কুরআন বলে তিনি দেবেন, জান্নাতে (44:56)। কিন্তু এটি বলে পৃথিবীর সবকিছু বিনষ্ট হয়, আর আপনার রবের চেহারা অবিনশ্বর থাকে (55:26-27)। অন্তহীন জীবন আসে মৃত্যুর পরে, তার বদলে নয় (3:185)।
চুয়াংজি মিয়াও-কু-শে পর্বতের এক দিব্য মানুষের কথা বলে, যিনি “বাতাস ও শিশিরে বাঁচেন”। তিনি “নশ্বরতার সীমার ওপারে ঘুরে বেড়ান” (চুয়াংজি 1)।
খণ্ডন
কাহিনিটি পরের মুখে শোনা, আর গুও শিয়াং দিব্য মানুষটিকে পড়েছিলেন ঋষির একটি ছবি হিসেবে। যেভাবেই পড়া হোক, এটি একটি গল্প, কোনো প্রতিশ্রুতি নয়। কুরআন এমনকি নবীকেও (ﷺ) বলে: আপনার আগে কোনো মানুষকে অনন্ত জীবন দেওয়া হয়নি (21:34)।
তাওবাদী: অন্তর্-রসায়ন ও দীর্ঘায়ু
অন্তর্-রসায়ন অমৃতকে ভেতরের দিকে ফিরিয়েছিল। চাং বোদুয়ান শ্বাসের ব্যায়াম, ওষুধ ও খনিজকে প্রকৃত স্বর্ণ-অমৃতের নিচে রেখেছিলেন, যার ফল একটি রূপান্তরিত আত্মা। অন্যরা, হেশাং গংয়ের ভাষ্যের সঙ্গে, বলেন লক্ষ্য হলো একটি দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন।
অন্তর্-রসায়ন কোনো ওষুধ বা শ্বাসের অনুশীলন নয়। চাং বোদুয়ান সেগুলোকে প্রকৃত স্বর্ণ-অমৃতের নিচে রেখেছিলেন, আর এর ফল একটি রূপান্তরিত আত্মা (উচেন পিয়ান)।
খণ্ডন
তাহলে এর লক্ষ্য আত্মা, দেহ নয়, আর ইসলাম একমত যে আত্মাই আসল লক্ষ্য (91:9-10)। কিন্তু কুরআন বলে পবিত্রতা নিজেই আল্লাহর (﷾) দান: তাঁর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে “তোমাদের কেউই কখনো পবিত্র হতে পারতে না” (24:21)। আর কোনো আত্মা মৃত্যুকে এড়িয়ে যায় না (3:185)। ফল আসে তার পরে, যখন প্রশান্ত আত্মাকে তার রবের কাছে ফিরে ডাকা হয় (89:27-30)।
আসল লক্ষ্য একটি দীর্ঘ, সুস্থ জীবন, কখনো না মরা দেহ নয়। হেশাং গংয়ের ভাষ্য তাও তে চিং 33-কে এভাবে পড়ে: নির্দোষ জীবন দীর্ঘায়ু আনে।
খণ্ডন
ইসলাম একমত যে দেহের তোমার ওপর অধিকার আছে (বুখারি 5199)। কিন্তু দীর্ঘ জীবনও শেষ হয়: “জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে” (3:185)। যে প্রশ্ন থেকে যায় তা হলো এর পরে কী আসে।
তাওবাদী: মৃত্যুকে একটি পরিবর্তন হিসেবে মেনে শান্ত থাকো
চুয়াংজি মৃত্যুর সামনে শান্ত থাকা শিখিয়েছিলেন: জীবন ও মৃত্যু ঋতুর মতো একের পর এক আসে। তাও তে চিং এমন একজনের কথা বলে, “যে মরে অথচ বিনষ্ট হয় না”।
চুয়াংজি তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুকে আরেকটি পরিবর্তন হিসেবে দেখেছিলেন, “বসন্ত, গ্রীষ্ম, শরৎ ও শীতের ক্রমের মতো”। তাই তিনি কান্না থামিয়েছিলেন (চুয়াংজি 18)।
খণ্ডন
ইসলামও শান্ত থাকতে বলে: “আমরা তো আল্লাহ্রই। আর নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী” (2:156)। কুরআন পৃথিবীর জীবনে ফিরে আসাকেও একটি নিদর্শন হিসেবে ব্যবহার করে। আল্লাহ (﷾) “যমীনকে জীবিত করেন তার মৃত্যুর পর এবং এভাবেই তোমাদের বের করে আনা হবে” (30:19), অর্থাৎ মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত করা হবে। পরিবর্তনটি শেষ হয় আল্লাহর (﷾) কাছে ফিরে যাওয়ায় (23:115), আর কিয়ামতের দিন আমাদের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হয় (3:185)।
“যে মরে অথচ বিনষ্ট হয় না, সে দীর্ঘায়ু পায়” (তাও তে চিং 33)। এমন একটি জীবন আছে যা মৃত্যু শেষ করে না।
খণ্ডন
ওয়াং বি একে পড়েন সেই পথ হিসেবে যে পথে মানুষটি বেঁচেছিল, যা তার দেহ চলে যাওয়ার পরও থেকে যায়। হেশাং গং একে পড়েন নির্দোষ জীবনের মাধ্যমে পাওয়া দীর্ঘায়ু হিসেবে। কেউই একে মানুষটির নিজের বেঁচে থাকা হিসেবে পড়েন না। কুরআন বলে সে বেঁচে থাকে: তাকে আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হয় (23:115)।
ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি
জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ নেয়, আর এই জগতে কাউকে অনন্ত জীবন দেওয়া হয় না। শেষ না হওয়া জীবন শুরু হয় মৃত্যুর পরে, আখিরাতের আবাসে। এটি আল্লাহর (﷾) দান, আমাদের নিজস্ব কোনো পদ্ধতির ফল নয়। তিনি তা দেন তাদের যারা ঈমান আনে আর সৎকাজ করে। ইসলাম দেহের যত্ন নেয় আর মৃত্যুর সামনে শান্ত থাকতে বলে। এটি আপনাকে কুরআন যত্ন নিয়ে বিবেচনা করতে বলে। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।
কুরআন বলে জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ নেবে। এটি এমনকি নবীকেও (ﷺ) বলে যে তাঁর আগে কোনো মানুষকে অনন্ত জীবন দেওয়া হয়নি।
কুরআন বলে আখিরাতের আবাসই “প্রকৃত জীবন”। এটি তাদের জন্য যারা ঈমান আনে আর সৎকাজ করে, আর তারা সেখানে প্রথম মৃত্যু ছাড়া আর মৃত্যুর স্বাদ নেবে না। যাকে আগুন থেকে বাঁচানো হয়েছে সে-ই সত্যিকারের সফল।
কুরআন বলে, যে আত্মাকে পবিত্র করে সে সফল হয়, আর পবিত্রতা নিজেই আল্লাহর (﷾) দান। প্রশান্ত আত্মাকে তার রবের কাছে ফিরে ডাকা হয়।
মৃত্যু হলো আল্লাহর (﷾) কাছে ফিরে যাওয়া, হিসাব দিতে। ক্ষতিতে আক্রান্তরা বলে, “আমরা তো আল্লাহ্রই। আর নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী”।
নবী (ﷺ) শিখিয়েছিলেন যে দেহের তোমার ওপর অধিকার আছে।
কুরআন যত্ন নিয়ে বিবেচিত হতে চায়, আর বলে খাতামুন নাবিয়্যিন মুহাম্মাদ (ﷺ) সব মানুষের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যাতে মুমিনদের পূর্ণাঙ্গভাবে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে।