সংক্ষিপ্ত উত্তর
না। কিছু মুসলিম দেশ বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর মধ্যে, আর কিছু খ্রিস্টান দেশ সবচেয়ে গরিব দেশগুলোর মধ্যে। 2024 সালে কাতার মাথাপিছু প্রায় $110,900 উৎপাদন করেছে, ব্রুনাই $79,200 আর সংযুক্ত আরব আমিরাত $68,600। প্রধানত খ্রিস্টান বুরুন্ডিতে এই অঙ্ক ছিল $800, আর গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে $1,500। ধর্মই যদি সম্পদ ঠিক করত, তবে এই সংখ্যাগুলো পাশাপাশি থাকতে পারত না। ধনী আর গরিবকে যা আলাদা করে তা হলো শান্তি, সৎ শাসন, সম্পদ আর ইতিহাস। সোমালিয়া আর ইয়েমেন বছরের পর বছর যুদ্ধে বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক মুসলিম দেশ বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপীয় সাম্রাজ্যের শাসনে ছিল। মুঘল ভারত সারা বিশ্ব থেকে সোনা-রুপা টেনে আনত। ব্রিটিশ শাসনে একজন ভারতীয় অর্থনীতিবিদ বছরে £30 মিলিয়ন সম্পদ পাচারের হিসাব করেছিলেন।
পূর্ণ ব্যাখ্যা
ধনী ও গরিব, মুসলিম ও খ্রিস্টান
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক প্রতিটি দেশের মাথাপিছু উৎপাদন দেয়, দামের পার্থক্য সমন্বয় করে। 2024 সালের জন্য এটি দেয়: কাতার প্রায় $110,900, ব্রুনাই $79,200, দুবাইয়ের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত $68,600, সৌদি আরব $62,700 আর মালয়েশিয়া $34,100। সবচেয়ে বেশি মুসলিমের দেশ ইন্দোনেশিয়া জি-টোয়েন্টির উনিশটি দেশের একটি, যারা মিলে বিশ্বের উৎপাদনের প্রায় 85% করে। সৌদি আরব আর তুরস্কও এর সদস্য। ফ্যাক্টবুকে গরিব মুসলিম দেশও আছে, যেমন নাইজার $1,800 আর সোমালিয়া $1,400। গরিব খ্রিস্টান দেশও আছে। প্রায় 94 শতাংশ খ্রিস্টান বুরুন্ডি $800-এ, আর প্রায় 93 শতাংশ খ্রিস্টান গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র $1,500-এ। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র $1,100-এ, আর দক্ষিণ সুদান $400-এ। একই ধর্ম তালিকার ওপরে আর নিচে দুই জায়গাতেই আছে। তাই ধর্ম তাদের ক্রম ঠিক করতে পারে না।
মাথাপিছু প্রকৃত জিডিপি দেয় (ক্রয়ক্ষমতার সমতা, 2024 সালের অনুমান, 2021 সালের ডলারে): কাতার $110,900, ব্রুনাই $79,200, সংযুক্ত আরব আমিরাত $68,600, সৌদি আরব $62,700, মালয়েশিয়া $34,100, ইন্দোনেশিয়া $14,500, নাইজার $1,800, সোমালিয়া $1,400, ইয়েমেন $200; বুরুন্ডি $800 (93.9% খ্রিস্টান), গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র $1,500 (প্রায় 93% খ্রিস্টান), মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র $1,100 (বেশিরভাগ খ্রিস্টান), দক্ষিণ সুদান 2023 সালে $400 (60.5% খ্রিস্টান)। এর টীকায় বলা হয়েছে যে সোমালিয়া 1960 সাল পর্যন্ত ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইতালির উপনিবেশ ছিল এবং ত্রিশ বছরের যুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতা এর অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে; তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল ইয়েমেনের অবকাঠামো, বাণিজ্য ও প্রতিষ্ঠানগুলো গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত হয়েছে; 1979 সালের সোভিয়েত আক্রমণের পর আফগানিস্তান একটি দীর্ঘ ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে বিপর্যস্ত হয়েছে; কাতার ষাট বছরের মধ্যে মুক্তা আহরণের জন্য পরিচিত একটি দরিদ্র ব্রিটিশ আশ্রিত রাজ্য থেকে বিপুল হাইড্রোকার্বন রাজস্বের একটি রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়েছে, এবং ইসলামি অর্থব্যবস্থায় অগ্রণী; মালয়েশিয়া উচ্চ শ্রম-উৎপাদনশীলতাসহ একটি প্রধান ইলেকট্রনিক্স রপ্তানিকারক, যা দুর্নীতিবিরোধী নীতি বাস্তবায়ন করছে; এবং 17শ শতাব্দী থেকে ডাচদের দ্বারা উপনিবেশিত ইন্দোনেশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি।
2009 সালে বিশ্বের মুসলিমদের দেশভিত্তিক একটি হিসাব: প্রায় 1.57 বিলিয়ন। প্রায় 5 জনে 1 জন থাকতেন মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায়, যে অঞ্চলে তুরস্ক ও ইরানও আছে, আর 10 জনে 6 জনের বেশি থাকতেন এশিয়ায়। সবচেয়ে বড় চারটি মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশে।
জি20-কে বর্ণনা করে 19টি দেশ আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকান ইউনিয়নের একটি আন্তঃসরকারি ফোরাম হিসেবে। এর সদস্যদের মধ্যে আছে ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব ও তুরস্ক। 19টি সদস্য রাষ্ট্র বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় 85 শতাংশ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের 75 শতাংশ আর বিশ্বের জনসংখ্যার 56 শতাংশ ধারণ করে। 1999 সালে গোষ্ঠীটি শুরু হওয়ার পর আফ্রিকান ইউনিয়ন প্রথম নতুন সদস্য।
একই ধর্ম তালিকার ওপরে ও নিচে দুই জায়গাতেই আছে, তাই ধর্ম দিয়ে এই ক্রম ঠিক হতে পারে না।
যুদ্ধ
সবচেয়ে গরিব কিছু মুসলিম দেশ সেগুলো, যেগুলো যুদ্ধে ছিন্নভিন্ন হয়েছে। ফ্যাক্টবুক বলে, ত্রিশ বছরের যুদ্ধ আর অস্থিরতা সোমালিয়ার অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। এটি বলে, গৃহযুদ্ধে ইয়েমেনের অবকাঠামো, বাণিজ্য আর অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়েছে, ফলে মাথাপিছু উৎপাদন প্রায় $200-এ নেমেছে। আফগানিস্তান 1979 সালের সোভিয়েত আগ্রাসন আর তার পরের কয়েক দশকের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে গেছে। যেখানে যুদ্ধ, সেখানে কোনো দেশ ধনী হয় না, তার ধর্ম যা-ই হোক।
মাথাপিছু প্রকৃত জিডিপি দেয় (ক্রয়ক্ষমতার সমতা, 2024 সালের অনুমান, 2021 সালের ডলারে): কাতার $110,900, ব্রুনাই $79,200, সংযুক্ত আরব আমিরাত $68,600, সৌদি আরব $62,700, মালয়েশিয়া $34,100, ইন্দোনেশিয়া $14,500, নাইজার $1,800, সোমালিয়া $1,400, ইয়েমেন $200; বুরুন্ডি $800 (93.9% খ্রিস্টান), গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র $1,500 (প্রায় 93% খ্রিস্টান), মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র $1,100 (বেশিরভাগ খ্রিস্টান), দক্ষিণ সুদান 2023 সালে $400 (60.5% খ্রিস্টান)। এর টীকায় বলা হয়েছে যে সোমালিয়া 1960 সাল পর্যন্ত ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইতালির উপনিবেশ ছিল এবং ত্রিশ বছরের যুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতা এর অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে; তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল ইয়েমেনের অবকাঠামো, বাণিজ্য ও প্রতিষ্ঠানগুলো গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত হয়েছে; 1979 সালের সোভিয়েত আক্রমণের পর আফগানিস্তান একটি দীর্ঘ ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে বিপর্যস্ত হয়েছে; কাতার ষাট বছরের মধ্যে মুক্তা আহরণের জন্য পরিচিত একটি দরিদ্র ব্রিটিশ আশ্রিত রাজ্য থেকে বিপুল হাইড্রোকার্বন রাজস্বের একটি রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়েছে, এবং ইসলামি অর্থব্যবস্থায় অগ্রণী; মালয়েশিয়া উচ্চ শ্রম-উৎপাদনশীলতাসহ একটি প্রধান ইলেকট্রনিক্স রপ্তানিকারক, যা দুর্নীতিবিরোধী নীতি বাস্তবায়ন করছে; এবং 17শ শতাব্দী থেকে ডাচদের দ্বারা উপনিবেশিত ইন্দোনেশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি।
সাম্রাজ্য আর সম্পদ পাচার
শতাব্দীর পর শতাব্দী মুসলিম দেশগুলো ধনী ছিল। 1660-এর দশকে মুঘল ভারতে থাকা ফরাসি চিকিৎসক ফ্রাঁসোয়া বের্নিয়ে লিখেছিলেন, সোনা ও রুপা “পৃথিবীর অন্য সব প্রান্তে ঘুরে শেষে হিন্দুস্তানে এসে গ্রাস হয়ে যায়, কিছুটা হারিয়ে যায়”। তারপর এল ইউরোপীয় সাম্রাজ্য। ব্রিটেন, ফ্রান্স আর ইতালি 1960 সাল পর্যন্ত সোমালিয়া দখলে রেখেছিল। ডাচরা সপ্তদশ শতাব্দী থেকে ইন্দোনেশিয়া শাসন করেছিল। 1901 সালে ভারতীয় অর্থনীতিবিদ দাদাভাই নওরোজি, যিনি নিজে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন, ভারত থেকে ব্রিটেনে সম্পদের “রক্তক্ষরণ” পাচারের হিসাব করেছিলেন বছরে প্রায় বা তার বেশি £30 মিলিয়ন। তিনি 1835 সালের একজন ব্রিটিশ লেখককে উদ্ধৃত করেছিলেন, যিনি বাংলায় দুটি চোখে পড়ার মতো বিষয় দেখেছিলেন: দেশের সমৃদ্ধি, আর তার মানুষের দারিদ্র্য।
বার্নিয়ে, যিনি বারো বছর মোগল ভারতে ছিলেন, বাংলাকে চাল, শস্য এবং রেশম, তুলা ও নীলের মতো বাণিজ্যপণ্যে মিসরের চেয়েও সমৃদ্ধ বলে বর্ণনা করেন, এবং দেশের বাজার ও রপ্তানির জন্য গালিচা, কিংখাব ও মিহি কাপড় তৈরি করা ভারতীয় কারিগরদের কথা বলেন। তিনি লেখেন: “এটি নজর এড়ানো উচিত নয় যে সোনা ও রুপা পৃথিবীর অন্য সব অঞ্চলে ঘুরে বেড়ানোর পর শেষ পর্যন্ত হিন্দুস্তানে এসে গ্রাসিত হয়, কিছুটা যেন হারিয়ে যায়।”
মাথাপিছু প্রকৃত জিডিপি দেয় (ক্রয়ক্ষমতার সমতা, 2024 সালের অনুমান, 2021 সালের ডলারে): কাতার $110,900, ব্রুনাই $79,200, সংযুক্ত আরব আমিরাত $68,600, সৌদি আরব $62,700, মালয়েশিয়া $34,100, ইন্দোনেশিয়া $14,500, নাইজার $1,800, সোমালিয়া $1,400, ইয়েমেন $200; বুরুন্ডি $800 (93.9% খ্রিস্টান), গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র $1,500 (প্রায় 93% খ্রিস্টান), মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র $1,100 (বেশিরভাগ খ্রিস্টান), দক্ষিণ সুদান 2023 সালে $400 (60.5% খ্রিস্টান)। এর টীকায় বলা হয়েছে যে সোমালিয়া 1960 সাল পর্যন্ত ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইতালির উপনিবেশ ছিল এবং ত্রিশ বছরের যুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতা এর অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে; তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল ইয়েমেনের অবকাঠামো, বাণিজ্য ও প্রতিষ্ঠানগুলো গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত হয়েছে; 1979 সালের সোভিয়েত আক্রমণের পর আফগানিস্তান একটি দীর্ঘ ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে বিপর্যস্ত হয়েছে; কাতার ষাট বছরের মধ্যে মুক্তা আহরণের জন্য পরিচিত একটি দরিদ্র ব্রিটিশ আশ্রিত রাজ্য থেকে বিপুল হাইড্রোকার্বন রাজস্বের একটি রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়েছে, এবং ইসলামি অর্থব্যবস্থায় অগ্রণী; মালয়েশিয়া উচ্চ শ্রম-উৎপাদনশীলতাসহ একটি প্রধান ইলেকট্রনিক্স রপ্তানিকারক, যা দুর্নীতিবিরোধী নীতি বাস্তবায়ন করছে; এবং 17শ শতাব্দী থেকে ডাচদের দ্বারা উপনিবেশিত ইন্দোনেশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি।
নওরোজি, একজন ভারতীয় অর্থনীতিবিদ যিনি 1890-এর দশকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন, যুক্তি দেন যে ব্রিটিশ শাসন ভারতের সম্পদ শুষে নিয়েছে। তিনি বিদেশি শাসনের “রক্তক্ষরণকারী” ও দরিদ্র করে তোলা শোষণকে বছরে প্রায় বা £30,000,000-এর বেশি বলে হিসাব করেন, যা উনিশ শতকের শুরুতে বছরে প্রায় £3,000,000 ছিল। তিনি 1835 সালে বাংলা ও বিহারের এক জরিপের ভিত্তিতে লেখা মন্টগোমারি মার্টিনকে উদ্ধৃত করেন দুটি লক্ষণীয় তথ্যের বিষয়ে: দেশের সমৃদ্ধি, এবং তার মানুষের দারিদ্র্য।
সম্পদ ও সততা নিয়ে ইসলাম কী শেখায়
ইসলাম মানুষকে উপার্জন থেকে আটকে রাখে না। কুরআন বলে, জুমার নামাজ শেষ হলে মুমিনরা যেন জমিনে ছড়িয়ে পড়ে আর আল্লাহর (﷾) অনুগ্রহ খোঁজে। এটি ব্যবসা অনুমোদন করে আর সুদ নিষেধ করে, আর পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার কথা বলে। এটি বিচারকদের ঘুষ দিতে সম্পদ ব্যবহার করা নিষেধ করে, আর মুসলিমদের আদেশ দেয় আমানত তার মালিককে ফিরিয়ে দিতে আর ন্যায়ের সঙ্গে বিচার করতে। দুর্নীতি আর অন্যায় এই আদেশগুলো ভাঙে; সেগুলো মেনে চলে না। ফ্যাক্টবুক মালয়েশিয়ার দুর্নীতিবিরোধী নীতি, ইলেকট্রনিক্স রপ্তানি আর উচ্চ উৎপাদনশীলতার কথা উল্লেখ করে, আর কাতারকে ইসলামি অর্থব্যবস্থায় একটি নেতৃস্থানীয় দেশ বলে।
“অতঃপর সালাত শেষ হলে তোমরা যমীনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অমুগ্রহ সন্ধান কর ও আল্লহকে খুব বেশী স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।”
“যারা সুদ খায় তারা তার ন্যায় দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে। এটা এ জন্য যে, তারা বলে, ‘ক্রয়-বিক্রয় তো সূদেরই মত।’ অথচ আল্লাহ্ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল ও সূদকে হারাম করেছেন। অতএব, যার নিকট তার রবের পক্ষ হতে উপদেশ আসার পর সে বিরত হল, তাহলে অতীতে যা হয়েছে তা তারই এবং তার ব্যাপার আল্লাহ্র ইখতিয়ারে। আর যারা পুনরায় আরম্ভ করবে তারাই আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।”
“হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না; কিন্তু তোমরা পরস্পর রাযী হয়ে ব্যবসা করা বৈধ; এবং নিজেদেরকে হত্যা করো না; নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।”
“আর তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কিছু অংশ জেনে বুঝে অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে বিচারকদের কাছে পেশ করো না।”
“নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন আমানত তার হকদারকে ফিরিয়ে দিতে। তোমরা যখন মানুষের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচার করবে। আল্লাহ তোমাদেরকে যে উপদেশ দেন তা কত উৎকৃষ্ট! নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।”
মাথাপিছু প্রকৃত জিডিপি দেয় (ক্রয়ক্ষমতার সমতা, 2024 সালের অনুমান, 2021 সালের ডলারে): কাতার $110,900, ব্রুনাই $79,200, সংযুক্ত আরব আমিরাত $68,600, সৌদি আরব $62,700, মালয়েশিয়া $34,100, ইন্দোনেশিয়া $14,500, নাইজার $1,800, সোমালিয়া $1,400, ইয়েমেন $200; বুরুন্ডি $800 (93.9% খ্রিস্টান), গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র $1,500 (প্রায় 93% খ্রিস্টান), মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র $1,100 (বেশিরভাগ খ্রিস্টান), দক্ষিণ সুদান 2023 সালে $400 (60.5% খ্রিস্টান)। এর টীকায় বলা হয়েছে যে সোমালিয়া 1960 সাল পর্যন্ত ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইতালির উপনিবেশ ছিল এবং ত্রিশ বছরের যুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতা এর অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে; তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল ইয়েমেনের অবকাঠামো, বাণিজ্য ও প্রতিষ্ঠানগুলো গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত হয়েছে; 1979 সালের সোভিয়েত আক্রমণের পর আফগানিস্তান একটি দীর্ঘ ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে বিপর্যস্ত হয়েছে; কাতার ষাট বছরের মধ্যে মুক্তা আহরণের জন্য পরিচিত একটি দরিদ্র ব্রিটিশ আশ্রিত রাজ্য থেকে বিপুল হাইড্রোকার্বন রাজস্বের একটি রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়েছে, এবং ইসলামি অর্থব্যবস্থায় অগ্রণী; মালয়েশিয়া উচ্চ শ্রম-উৎপাদনশীলতাসহ একটি প্রধান ইলেকট্রনিক্স রপ্তানিকারক, যা দুর্নীতিবিরোধী নীতি বাস্তবায়ন করছে; এবং 17শ শতাব্দী থেকে ডাচদের দ্বারা উপনিবেশিত ইন্দোনেশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি।
দৃষ্টিভঙ্গি
সমালোচকেরা যা বলেন
সমালোচকেরা বলেন, ইসলাম অর্থনৈতিক উন্নতি আটকে রাখে, আর উপসাগরীয় দেশগুলো কেবল তেলের কারণেই ধনী। তারা বলেন, মুসলিম দেশগুলো তাদের ধর্মের কারণেই খারাপভাবে শাসিত।
সমালোচকেরা বলেন, ইসলাম অর্থনৈতিক উন্নতি আটকে রাখে।
খণ্ডন
একই ধর্ম আছে মাথাপিছু প্রায় $110,900-এর কাতারে আর $1,800-এর নাইজারে, আর প্রধানত খ্রিস্টান বুরুন্ডি দাঁড়িয়ে আছে $800-এ। মালয়েশিয়া আর ইন্দোনেশিয়া বাণিজ্য ও শিল্পের মাধ্যমে উন্নতি করেছে। শান্তি, সৎ শাসন আর ইতিহাস এই ব্যবধান ব্যাখ্যা করে; ধর্ম নয়।
সমালোচকেরা বলেন, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো কেবল তেলের কারণেই ধনী।
খণ্ডন
শুধু তেল কোনো দেশকে ধনী করে না: ইয়েমেনও তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভর করে, অথচ যুদ্ধ তাকে মাথাপিছু প্রায় $200-এ রেখেছে। মালয়েশিয়া ইলেকট্রনিক্সের বড় রপ্তানিকারক হয়ে উন্নতি করেছে। যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো শান্তি আর একটি দেশের সম্পদ কীভাবে পরিচালিত হয়।
সমালোচকেরা বলেন, ইসলামের কারণেই মুসলিম দেশগুলো খারাপভাবে শাসিত।
খণ্ডন
কুরআন বিচারকদের ঘুষ দেওয়া নিষেধ করে আর ন্যায়বিচার ও আমানত ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেয়। খারাপ শাসন ইসলামের নিয়ম ভাঙে। অনেক মুসলিম দেশ এক শতাব্দী বা তারও বেশি সময় ইউরোপীয় সাম্রাজ্যের শাসনে ছিল, যারা তাদের সম্পদ পাচার করেছে।
ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি
ইসলাম দারিদ্র্যের কারণ নয়। ধনী আর গরিব দেশগুলোর ধর্ম একই; পার্থক্য গড়ে যুদ্ধ, সাম্রাজ্য, দুর্নীতি আর ইতিহাস। কুরআন সৎ ব্যবসায় উৎসাহ দেয় আর ঘুষ ও অন্যায় নিষেধ করে।
কিছু মুসলিম দেশ বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর মধ্যে, আর কিছু খ্রিস্টান দেশ সবচেয়ে গরিব দেশগুলোর মধ্যে।
মুঘল ভারতে আসা একজন ফরাসি অতিথি লিখেছিলেন, বিশ্বের সোনা ও রুপা শেষে সেখানেই এসে জমা হতো।
দাদাভাই নওরোজি হিসাব করেছিলেন, ব্রিটিশ শাসনে ভারত থেকে সম্পদ পাচার হতো বছরে প্রায় £30 মিলিয়ন।
কুরআন ব্যবসায় উৎসাহ দেয়, বিচারকদের ঘুষ দেওয়া নিষেধ করে আর ন্যায়বিচারের আদেশ দেয়।